শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ জামালকে নিয়ে তেমন কোনও আলোচনা কেন হয় না, যতটা শেখ কামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে হয়?
শেখ কামাল ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি আতাউল গনি ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেন। তিনি ঢাকা আবহানী এর প্রতিষ্ঠাতা। শেখ কামাল ছাত্রলীগ করতেন। ১৯৭৩ এর শেষের দিকে শেখ কামাল একটি গুলিবর্ষণে জড়িয়ে পড়েন যাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
।
জাতির জনকের বড় পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, আবহানী লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা, ছাত্রলীগ কর্মী, উনার বোন শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন যাবত রাষ্ট্রক্ষমতায়, এত কিছু কি যথেষ্ট নয় শেখ কামালকে নিয়ে এত বছর পরেও আলোচনা হওয়ার?
।
জীবিত অবস্থায়ই শেখ কামাল অনেক আলোচনা এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন, যা উনার মৃত্যুর পর ঢালপালা গজিয়েছে। অপরদিকে শেখ জামাল ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন কমিশন প্রাপ্ত অফিসার।
বড় ভাই শেখ কামালের মতো জীবিত অবস্থায় আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিতে পারেননি।
আর শেখ কামাল বড় সন্তান হিসেবে স্বভাবতই দেশের নজড়টা বেশি শেখ কামালের দিকেই থাকত।
।
এবার আসি শেখ রাসেল সম্পর্কেঃ
শেখ রাসেল ছিলেন জাতির জনকের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান । ছিলেন জাতির জনকের অতি আদরের। পরিবারের ছোট সদস্য হিসেবে বাবার হাত ধরে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন । রাসেল নামটি রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই। বিখ্যাত বৃটিশ দার্শনিক নোবেল পুস্কারপ্রাপ্ত বার্ট্রান্ড রাসেলের নামের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের নাম রাখলেন শেখ রাসেল।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র থাকাকালীন মাত্র ১১ বছর বয়সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সসদ্যদের সঙ্গে ঘাতকদের হাতে হত্যার নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
একটি দেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। বাদ গেল না ১১ বছরের ছোট্ট শিশুটি।
শেখ রাসেল পরিবারের ছোট বিধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও শেখ রাসেল নামটি আবেগের।
শেখ রাসেলের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই কেদে ফেলেন ।
হয়তো প্রধানমন্ত্রীর এই আবেগকে ব্যবহার করে ফায়দা নিতে কিছু সুবিধাবাজ যতত্রত শেখ রাসেল নামটি ব্যবহার করেন ।
বিভিন্ন কলাম লেখক ও সাহিত্যিকদের লেখায়ও উঠে এসেছে শেখ রাসেলের নাম।
এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের কল্যানে দেশব্যাপী করা বিভিন্ন প্রজেক্ট শেখ রাসেলের নামে করা হয়েছে। যেমনঃ উপজেলা পর্যায়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ।
।
আর স্বভাবতই আপনার চারপাশে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে পরিবারের বড় ছেলে এবং ছোট ছেলেদের তুলনায় মেঝো কিংবা সেঝো ছেলেরা একটু কমই আলোচনায় থাকেন ।